সোয়াইন ফ্লু হবার কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা

সোয়াইন ফ্লু হবার কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা

H1N1 ভাইরাসের সাধারণ নাম সোয়াইন ফ্লু। উদ্ভব হয়েছিলো শুকর থেকে। তবে ছোঁয়াচে হওয়াতে ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৯ সালে মহামারী আকার ধারণ করে রোগটি। অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারনে World Health Organization একে pandemic আখ্যা দেয়। বিভিন্ন প্রতিরোধ পন্থা জানা না থাকার ফলে মৃত্যুহার বেড়ে গিয়েছে ভারতে। সোয়াইন ফ্লু সম্পর্কে সবকিছু জানুন এবার।

লক্ষণঃ

সোয়াইন ফ্লুয়ের লক্ষণ অনেকটা মৌসুমী ফ্লুয়ের মতোই লাগতে পারে। মূলতঃ শ্বসনতন্ত্রে এ লক্ষণগুলো দেখা যায়। যেমন:-

  • কফ
  • গলা ফুলে যাওয়া
  • শিরশির লাগা
  • জ্বর
  • সর্দি
  • শরীর ব্যথা
  • ডায়েরিয়া
  • অবসাদ
  • মাথাঘোরা ও বমি

কিছুক্ষেত্রে জটিল লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন ফুসফুস সংক্রমণ, নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য শ্বসন সমস্যা।

কারণঃ

মূলতঃ দুটি উৎসের মাধ্যমে সোয়াইন ফ্লু ছড়ায়

  • সংক্রমিত শুকর: সংক্রমিত শুকরের সাথে যেকোনো রকম সংস্পর্শে এলেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • সংক্রমিত মানুষ: মানুষ থেকে মানুষে খুব সহজেই সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে পড়তে পারে। কাজেই পরামর্শ দেয়া হয় সোয়াইন ফ্লু ভরপুর কোনো জায়গায় সচরাসচর না যেতে।

প্রতিরোধঃ

টিকা নেয়া সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে সর্বোত্তম ব্যবস্থা। অন্যান্য উপায় গ্রহণ করে সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করা যেতে পারে। কিছু সাধারণ প্রতিরোধ পন্থা হতে পারে—

  • লক্ষণ অবহেলা না করা

ফ্লুয়ের লক্ষণের প্রতি মনোযোগ দিন, অবহেলা করবেন না। আগেই আগেই লক্ষণ শনাক্ত করতে পারলে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ হবে। এতে পরবর্তী সমস্যাগুলো এড়ানো যাবে।

  • ফ্লু ভরপুর এলাকায় না যাওয়া

যদি ফ্লু ভরপুর স্থানে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা থাকে, অবিলম্বে পরিকল্পনা বাতিল করুন। সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে খুব তাড়াতাড়ি ফ্লু ছড়িয়ে পড়ে। খবরের দিকে চোখ রাখলেই বুঝতে পারবেন কোন কোন স্থান ফ্লু ভরপুর হয়ে যাচ্ছে। বাসায় থাকার চেষ্টা করুন,

ভ্রমণ পরে করা যাবে।

  • স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ

আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাসের আক্রমণ থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমন খাদ্যগ্রহণ আবশ্যক যা দ্বারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো শক্তিশালী হয়। বেশি করে সবুজ শাকসবজি, রসালো ফলমূল, দুগ্ধজাত পণ্য ইত্যাদি খান।

  • বেশি বেশি হাত ধোয়া

আপনার হাত এমন জায়গায় স্পর্শ করতে পারে যা সংক্রমিত। সুতরাং ভালো করে হাত ধুয়ে নিন, বিশেষ করে খাওয়ার আগে ও পরে। সাথে স্যানিটাইজারও রাখতে পারেন।

কিছু কথাঃ

সোয়াইন ফ্লু মাঝে মাঝে খুব জটিল দিকে চলে যেতে পারে, যা থেকে ফেরা সম্ভব নয়। এসব এড়ানোর জন্য কোনো অবস্থাতেই লক্ষণকে অবহেলা করবেন না। লক্ষণসমূহ সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং সেরকম কিছু দেখা গেলে ডাক্তার দেখানো আবশ্যক। ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার সময়ে ফ্লু টিকা নেয়া দরকার।

 টিপসটি ভালো লাগলে Like দিন, টিপসটি সম্পর্কে কোন কিছু জানার থাকলে অবশই কমেন্ট করবেন এবং প্রতিদিন স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস পেতে (বিডি হেলথ টিপসের) এর সাথে থাকুন ।